বড়সড় মানব পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল কর্ণাটক পুলিশ, উদ্ধার শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী ৩৮ জন তামিল


DP Satish

#বেঙ্গালুরু: বেশ বড়সড় অভিযান চালিয়ে মানব পাচার চক্রের (Human Trafficking Ring) পর্দাফাঁস করল কর্ণাটক (Karnataka) পুলিশ। শ্রীলঙ্কায় (Sri Lankan) বসবাসরত ৩৮ জন তামিলকে কানাডায় পাচার করার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিরুনি তল্লাশি শুরু করে কর্ণাটক পুলিশ। এরপরেই ম্যাঙ্গালোর (Mangalore) থেকে উদ্ধার করা হয় ওই ৩৮ জন শ্রীলঙ্কাবাসীকে। তবে ম্যাঙ্গালোরের পাশাপাশি তামিলনাড়ু পুলিশের তৎপরতায় তামিলনাড়ু থেকেও উদ্ধার হয় ২৩ জন শ্রীলঙ্কাবাসী। তাদের মধ্যে একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে কর্ণাটক পুলিশ।

সূত্রের তরফে খবর পাওয়ার পরেই কর্ণাটকের গোয়েন্দারা এই পোর্ট সিটির হোটেলগুলিতে শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের অবৈধভাবে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে ম্যাঙ্গালোর শহরের পুলিশকে সতর্ক করে দেন। এরপর পুলিশ কমিশনার শশী কুমারের (Shashi Kumar) নেতৃত্বে একটি দল সেই হোটেলগুলিতে হানা দিয়ে শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী তামিলদের উদ্ধার করে।

কর্ণাটক পুলিশের কথায়, এই সমস্ত মানুষগুলোকে পাচার করার জন্য প্রথমে তাদের জলপথে নৌকায় করে শ্রীলঙ্কা থেকে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন বন্দরে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের ম্যাঙ্গালোর পাঠানো হয়। পাচারকারী দলের পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকে তাঁদের মালবাহী জাহাজে করে পাঠানো হবে কানাডার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে চলা লকডাইনের জেরে ভেসতে যায় তাঁদের সেই পরকল্পনা। তাই সঠিক সময়ে জাহাজে করে কানাডা পাচার করার পূর্বে এই মানুষগুলোকে রাখা হয় শহরেরই বেশ কিছু হোটেলে। তবে এই দুর্ভাগা মানুষগুলোকে পাচার করার পূর্বেই সেই খবর জানতে পারে তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের গোয়েন্দা বিভাগ এবং তারা তড়িঘড়ি পুলিশকেও এবিষয়ে সতর্ক করে দেয়।

উদ্ধারকৃত ওই শ্রীলঙ্কাবাসীরা জানিয়েছেন যে, মাথাপিছু এজেন্টরা ৬ লক্ষ টাকা (শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় ১.৫ মিলিয়ন) করে নেয় এবং তাদের ভারতে নিয়ে আসার পূর্বে শ্রীলঙ্কাতেই এই অগ্রিম টাকা প্রদান করা হয়। এই মানুষগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে ম্যাঙ্গালোর পুলিশ। তবে এই পাচারচক্রের মাস্টারমাইন্ড শ্রীলঙ্গা বা কানাডাতেই আছে বলে মনে করা হচ্ছে। অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে এই পাচারচক্রের খবর নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রকের কাছে পাঠায় কর্ণাটক পুলিশ।



Reference: Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *