জেলায় জেলায় ঢিলেঢালা ভাব লকডাউনে


মঙ্গলবার
দোকান খোলা রাখার দাবিতে ঝিনাইদহ ও টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীরারা বিক্ষোভ করেছেন।

লকডাউন
মেনে চললেও কোনো কোনো স্থানে দোকানপাট খোলা রাখার খবর এসেছে।

কোভিড-১৯ বিস্তার
রোধকল্পে সোমবার ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে
গণপরিবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন
ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত রোববার
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞায়
সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সুযোগ
দেওয়া হয়েছে।

বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:

রাজশাহী

মঙ্গলবার
রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে বড় বিপণী বিতান আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেছেন।

আরডিএ
মার্কেটের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা করার সুযোগ
দিতে হবে। না হয় আমরা কীভাবে চলব। আমাদের কর্মচারীদের বেতন, দোকান ভাড়া কীভাবে
দেব।”

রফিকুল
ইসলাম রবি নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা গত এক বছর ধরে ক্ষতির মধ্যে রয়েছি। গত
ঈদে দোকান বন্ধ থাকায় যা ক্ষতি হয়েছে সেটি থেকে এখনো বের হতে পারিনি। সামনে ঈদ, এই
সময়ে ব্যবসা করতে না দিলে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।”

আহমেদুল
হক মামুন নামে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলেন, তাদের লাখ লাখ টাকার মাল আটকে রয়েছে।
পণ্য বিক্রি করতে না দিলে কীভাবে ব্যবসা চলবে? গার্মেন্টস ব্যবসা ঈদের মৌসুমে বেশি
হয়।

“সরকার
দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় দোকান খুলতে দিক, আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক ও
হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করে পণ্য বিক্রি করব।”

রাজশাহী
জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া দোকান খোলা
যাবে না। যদি তারা খোলে তাহলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

লকডাউন
মানাতে প্রশাসনও মাঠে রয়েছে।

অতিরিক্ত
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম আরও বলেন, লকডাউনে সরকারের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে
জেলা প্রশাসন কাজ করছে। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। বাইরে বের হলে মাস্ক
পরতে বাধ্য করছি, না পরলে অর্থদন্ড দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার
দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ জনের ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ফেনী

ফেনীতে
দ্বিতীয় দিনে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন।

সরেজমিন
দেখা গেছে, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও দূরপাল্লার গণপরিবহন, শহরের শপিংমল-ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। খাবার হোটেলগুলো খোলা থাকলেও শুধু পার্সেলে বিক্রি হচ্ছে।

তবে
শহরের কোনো কোনো কিছু দোকানও খোলা রয়েছে।

শহরের
অতিথি রেস্টুরেন্টের মালিক হাসান জুয়েল জানান, হোটেলে কোনো খাবার খেতে দিচ্ছে না। তবে
তারা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্সেলে খাবার বিক্রি করছে।

শহরের
পেট্রোবাংলার বাসিন্দা রাজিব সারওয়ার বলেন, জরুরি কাজে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে
বাসা থেকে বেরিয়েছেন। একটি পেস্ট্রি দোকান থেকে খাবার কেক ও পানি কিনে খেতে চাইলে
দোকানি দোকানে বসে খাবার খেতে নিষেধ করেন।

এদিকে,
শহরের বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায় নিত্যপণ্যের পাশাপাশি কাপড়দের দোকান, ফলের দোকান,
হার্ডওয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান খোলা রয়েছে।

একই
চিত্র দেখা গেছে শহরের পৌর হকার্স মার্কেট, মুকাত বাজারসহ আশাপাশের ছোট-বড়
বাজারগুলোতে।

এছাড়া
জেলার পরশুরাম, দাগনভূঞা, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও সোনাগাজী উপজেলায়ও লকডাউনে মানুষকে
ঘর থেকে বের হতে দেখা গেছে। জনসমাগম দেখা গেছে প্রতিটি হাট-বাজারে।

করোনাভাইরাস
সম্পর্কে সতর্ক করতে জেলা তথ্য অফিস ও ফেনী রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেনী শহরসহ
বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং করছে।

ফেনী
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, সরকারি বিধি নিষেধ মানার জন্য জনগণকে
উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে মিটিং করা হয়েছে, সবাই যেন সর্বাত্মকভাবে
বিধি নিষেধ মেনে চলে সে বিষয়টি জেলা প্রশাসন তদারকি করছে।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের
শৈলকুপা শহরের লকডাউনের মধ্যে দোকান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন
ব্যবসায়ীরারা।

মঙ্গলবার
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের চৌরাস্তা মোড়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময়
শৈলকুপা শহরে যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শৈলকুপা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, খবর পেয়ে তিনি শৈলকুপা পৌর
মেয়র কাজী আশরাফুল ইসলাম ও শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের
বোঝান। তারপর তারা অবরোধ তুলে নেন।

শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে
দ্বিতীয় দিনে ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন চলছে। তেমন কেউ বিধিনিষেধ মানছে না। টহল পুলিশকে
ফাঁকি দিয়ে লকডাউন নিয়ে লুকোচুরি খেলছেন ব্যবসায়ীরা। পুলিশ গেলে দোকান বন্ধ করেন,
চলে গেলে আবার খোলেন।

জেলা
শহরের কিছু দোকান পাট বন্ধ থাকেলেও উপজেলা শহরগুলোতে মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ।

নড়িয়া
উপজেলার ভোজেশ্বর বন্দরের মো. আলী সিকদার, মিজানুর রহমান বলেন, ভোজেশ্বর বন্দরে
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আগের মতই ব্যবসাবাণিজ্য চলছে। প্রশাসনের লোকজন বাজারে আসে
না।

ডামুড্যার
ব্যাবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, “দোকান খুলে বসে আছি। তবে তেমন বেচাকেনা নেই বললেই
চলে।”

নড়িয়া
থানার ওসি পবিত্র চক্রবর্তী বলেন, “বিভিন্নভাবে বলার পরও লোকজন কথা মানছে না। আমরা
লোকজনকে লকডাউন মানাবার চেষ্টা করছি।”

জাজিরা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান ভুইয়া বলেন, কিছু লোক সরকারের
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করলেও বেশিরভাগ লোক লকডাউনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। বিধিনিষেধ
মানার চেষ্টা করছেন।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের
মির্জাপুরে লকডাউনের মধ্যে দোকান খোলার দাবিতে ব্যাবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছেন।

মঙ্গলবার
দুপুর ১২টার দিকে মির্জাপুর বাজারে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, মির্জাপুর বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী মসজিদ মার্কেটের সামনে সমবেত হয়ে
লকডাউনের বিপক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এসময় অধিকাংশ মানুষ মাস্কবিহীন ছিলেন।

মিছিলটি
বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে শেষ হয়। সেখানে তারা বিক্ষোভ
করেন।

সেখান
থেকে তারা আবার মিছিল নিয়ে কলেজ রোডে এসে সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে আসেন।

এ সময়
স্টুডিও ব্যবসায়ী মো. আলম মিয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। লকডাউন না
মেনে তিনি সকল ব্যাবসায়ীকে তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খোলার আহবান জানান।

মির্জাপুর
বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, বাজারের কিছু
সংখ্যক ব্যবসায়ী তার অজান্তে এই মিছিলটি বের করে।

উপজেলা
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
মিছিলের খবর পেয়েছি। ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা
হচ্ছে।”





Reference: Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *